Humans of Thakurgaon > Stories > Rahima Khatun


"আমার ছোটবেলা কাটে নানাবাড়ি সাকোয়াতে। এসএসসি পর্যন্ত সেখানেই পড়ালেখা করতাম। ক্লাস টেনে আমার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পরে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ ইন্টারমেডিয়েটে ভর্তি হই। সে সময়টা ছিল ঠিক মুক্তিযুদ্ধের ক্রান্তিলগ্ন। যার ফলে যুদ্ধের পরেই আমার পরীক্ষাটা হয়। পরবর্তিতে আমার স্বামী একটা দুর্ঘটনায় মারা যান বলে আমি বাবা-মার সাথে তাদের ঠাকুরগাঁও শহরের বাসায় এসে উঠি। পড়ালেখা বন্ধ করিনি তবুও। আম্মা আমার সন্তানদের দেখতেন, আমি পড়তাম। সরকারি কলেজ থেকেই কমার্সে বিকম শেষ করি। সে সময় বিকম কোর্সটা রাত্রিকালীন ছিল। আমার অনুরোধেই সেটা দিবাকালীন করা হয়। সেখান থেকে পাশ করে আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাই। রাজশাহীতে আমি ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স সম্পন্ন করি ১৯৭৯ সালে।

ঠাকুরগাঁও এ তখনও মেয়েদের জন্য ভালো চাকরির সুযোগ ছিল না তথাপি একজন মেয়ে বলে বাইরে গিয়ে চাকরি করবার সাহস পাচ্ছিলাম না। তাই ঠাকুরগাও-এ থেকে গেলাম। সৈয়দা জাহানারার সাহচার্যে আমি সেসময় মুন্সিরহাট মহিলা সমিতিতে যোগ দেই। তৎকালীন ইউএসসি কানাডা নামে একটি এনজিও এখানে কাজ করত। একই সাথে ওদের ওখানে একাউন্টস এর সাথে কাজ করতাম। ‘৮৫-সালে ইউএসসি ছেড়ে দিয়ে মহিলা সমিততে পুরো মনোযোগ দিয়ে কাজ শুরু করি। এই সমিতির গোড়াপত্তন থেকেই যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের নিয়ে কাজ করতো। মহিলারা নানান রকম কাজ করতেন; বাঁশ বেতের ডালাকুলা বানাতেন, মাটির পুতুল তৈরি করতেন, হলুদ-মরিচ ভাঙতেন। ‘৭৮-সালে এখানে ‘হোম’ প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা এটাকে হোম বলি, এতিমখানা নয়। এ পর্যন্ত প্রায় ত্রিশ জনের মত মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছে এখান থেকে। আগে এই সমিতিতে তাঁত এবং রেশমের কাজও হত। আরডিআরএস-এর হাত থেকে রেশম কারখানা সরকার এর হাতে গেলে বীজ সরবরাহে ঘাটতি আসে। সরকার রেশম বীজ সরবরাহ বন্ধ করে দিলে আমরা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হই।

এছাড়া আমাদের দুটো স্কুল আছে যেগুলো ক্রমান্বয়ে ’৮৫ এবং ’৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুল দুটো হচ্ছে প্রারম্ভিক কিন্ডারগার্টেন এবং প্রতিভা কিন্ডারগার্টেন। আমি কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের কো-চেয়ারম্যান হিসেবে আছি। আমি এগুলোর পাশাপাশি গার্ল গাইডসের সাথে কাজ করতাম। বর্তমানে গার্ল গাইডসের লোকাল কমিশনার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছি।

আমি স্বপ্ন দেখি ঠাকুরগাঁও-এর মহিলারা এগিয়ে যাক। আমার দৃষ্টিতে আমি সেসময়ের সাথে তুলনা করলে অনেক পরিবর্তন দেখি। আগের থেকে মেয়েরা অনেক অনেক এগিয়েছে। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে ছিল হাতে গোনা। আজ ঠাকুরগাঁও-এ প্রায় সব পরিবার থেকে মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে। পরিবারগুলোতে অন্তত একজন করে কর্মজীবী মহিলা আছেন। তবে আমি শুধু বাহ্যিক উন্নতিতে বিশ্বাসী না। আমাদের ভেতরে কতটা উন্নতি হয়েছে এটা একটা প্রশ্ন। একটা পরিবারে ‘ডিসিশন মেকার’ হিসেবে একজন মেয়ের ক্ষমতায়ন হচ্ছে কতটা? সত্যিকার অর্থে মানসিকভাবে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি। এটা আমাদের মেয়েদেরই দোষ। আসলে দোষ বললে ঠিক হবে না। আমাদের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবেই সেই অনুভূতি বা বোধশক্তিটা নাই। এজন্য আমাদের মেয়েদের আরেকটু সাহস দিতে হবে। মেয়েদের সাহসি হতে হবে। নিজেদের যোগ্য করতে হবে। প্রমাণ করতে হবে।

মুন্সিরহাট মহিলা সমিতির সাথে কাজ করবার সুবাদে ২০০৮-এ সরকার আমাকে ‘শ্রেষ্ঠ মহিলা সমবায়ক স্বর্ণ পদক’ প্রদান করেন। এছাড়া দুই বার রাষ্ট্রীয় রৌপ্য পদক পাই মহিলা ও সমবায় বিষয়ে কাজ করবার কারণে।

আমি ঠাকুরগাঁও-এর মেয়ে। এখানকার মেয়েদেরকে নিয়েই কাজ করে যেতে চাই। দেখতে চাই তাদের অকৃত্রিম নির্মল হাসি। যে হাসিই বলবে তাদের ক্ষমতায়নের কথা, তাদের স্বাধীনতার কথা, শোনাবে তাদের চূড়ান্ত ক্রমবিকাশের গল্প।"


"I passed my childhood in my grandfather’s house at Sakoa. I studied there until the SSC. However, I was married during that time. After the wedding, I was admitted to Thakurgaon Govt. College to study intermediate. It was the moment of our liberation war. As a result, the exam postponed and immediately after the war I appeared the intermediate exam. Later, my husband died in an accident unfortunately. I came up with my parents in their home town at Thakurgaon. Although my studies have not stopped. My mother used to take care of my children, I continued my study. I completed my B.Com. from Thakurgaon Govt. College. At that time, it was a night course. Responding to my request the authority turned the course diurnal. Later, I went to the University of Rajshahi. I have completed masters of Management in 1979 from Rajshahi.

At that moment there were no good job opportunities for women in Thakurgaon still as a girl I could not dare to go out of Thakurgaon to work. So I stayed in Thakurgaon. At the time I joined the Munshirhat Mohila Samiti with the cooperation of Syeda Jahanara. A Canadian NGO named USC worked here at that period. I joined their accounts section at that time too. I resigned in 1985 and devoted my full attention at Munshirhat Mohila Samiti. Since the beginning of this association, they used to work with war-affected women. They have done many things like wood-work, craft-work, clay-work, turmeric-pepper-work etc. The ‘Home’ was established in 1978. We call it home rather than an orphanage. More than thirty female have been married so far from here. This Samiti used to work weaving and silk. When the Govt. took the silk factory from RDRS, there were shortage supply of seeds. After turning off the supply of silk seeds from the Govt. we were forced to stop working.

We established two different education institutes (Kindergarten) in 1985 and 1986 respectively. The first one is Prarambhim Kindergarten and the second one is Pratibha Kindergarten. Right now I am the co-chairman of the Kindergarten Association. I used to work with the Girl Guides as well. Right now, I am in charge of the Girl Guides as local commissioner.

I dream of Thakurgaon women’s emerging. In my eyes, I see many changes compared to the then-period. Many of the girls progressed than the past. At that time very few girls would be found to be studied in Universities. Today, almost all of the families from Thakurgaon send their girls to the Universities. At least one of the women would be found from a family holding a job. But I just do not believe in external growth. It is a question of how much we developed inside us. How much empowerment is ensured for a female as a ‘Decision Maker’ of the family? In fact, we are a bit behind mentally. It is the fault of our women. Materially, that is not even a fault. Naturally the feeling or the perceptivity among us have not developed yet. That is why we should give our girls a little more courage. The girls must become brave. The girls must prove themselves to be eligible.

In 2008 the government awarded me 'Best Female Samabayak Gold Medal’ as recognition of my workings at Munshirhat Mohila Samiti. Besides I got silver medal twice due to the course of my works.

I am a daughter of Thakurgaon. I cherish to work with the girls of Thakurgaon. I want to take a look at their pure and genuine smile. Which smile will tell us about their empowerment, their freedom and the story of their evolvement."


729 October 28, 2016

  • comment Load Comments Section

    question_answer Comments

    No new comments.

Next
Go back to Stories