Humans of Thakurgaon > Stories > Dr. M A Momin


"সিলেট ওসমানি মেডিকেল থেকে পাশ করবার পর আমার প্রথম কর্মস্থল ছিল সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল। কর্মজীবনে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালেও প্রশাসনিক পদে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। এবং এই মুহুর্তে ঠাকুরগাঁও-এ বসবাস করেই জীবন অতিবাহিত করছি।

আমার ছাত্র জীবন শুরু হয় ঠাকুরগাঁও প্রাইমারি স্কুলে। সেখান থেকে ঠাকুরগাঁও জিলা স্কুল। মেডিকেল জীবনে খুব সাদামাটা জীবন যাপন করার চেষ্টা করতাম। বাড়ি যেহেতু অনেক দূরে ছিল, মেডিকেলের সবাই আমাকে অনেক ভালোবাসতো। মানুষের চিন্তা-ভাবনা আর বিবেচনার চমৎকার দিকটা আমি তখন বুঝতে পারি।

অবসর গ্রহণ করবার পর থেকে আমি বিভিন্ন বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করেছি। ইএসডিও-এর একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে এখন কাজ করছি। সেখানে মাত্র ২০ টাকার টিকেটের বিনিময়ে সেবা দেওয়া হয়। টিকেটের টাকার অর্ধেক আমাকে সম্মানি হিসেবে দেওয়া হয়। বাকিটা চিকিৎসাকেন্দ্রটির উন্নয়নে ব্যয় হয়। সারাদিন সেখানেই সময় কাটাই। বিকেলে বাসায় আসবার পরে অফিসার্স ক্লাবে যাই মাঝে মাঝে।

অবসর সময়ে বাসার ছোট্ট একটি চেম্বারে বসে চিকিৎসা দেই। তবে কোন অর্থ গ্রহণ করি না। আমার মনে হয় বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের টিকেটের অর্ধেক টাকা থেকে আমি যা পাই তা আমার সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট। বিশেষ করে আশ্রমপাড়া ও দক্ষিনপাড়ার আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে সেবা দিতে চেষ্টা করি আর কি।

আমি মনে করি, দেশের মেধা তালিকার প্রথম সারির ছেলে-মেয়েরা মেডিকেলে ভর্তি হয়। শহুরে পরিবেশে পড়ালেখা করতে করতে এই মেধাবীরা আর ইউনিয়ন পর্যায়ে এসে অনেক সময় কাজ করতে চায় না। এটা ভীষণ জরুরী। আমি মেডিকেলের শিক্ষার্থী ভাই-বোনদের আহ্বান করি কমপক্ষে কর্ম জীবনের প্রথম দুই একটা বছর গ্রামে থেকে কাজ করুন। আসলে আমাদের পরিচয় হচ্ছে গ্রাম। গ্রামের নিতান্ত সাধারণ মানুষগুলো অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষা করে। তারাও যেহেতু করদাতা আপনার ওপর তাদেরও একটা অধিকার আছে; তাই না? আর গ্রামে কাজ করলে অভিজ্ঞতার খাতাটাও ভারি হবে এরই সাথে।

ঠিক এই মুহুর্তে একটি প্রতিবন্ধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করছি যার প্রায় শতকরা ষাট ভাগ শিক্ষার্থী প্রতিবন্ধী। জেলা প্রশাসন থেকে একটি প্রায় পঁয়ষট্টি শতক খাস জমি আমরা পেয়েছি। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনকে।

দুই সন্তান ঢাকায় নিজ কর্মস্থলে ব্যস্ত। ঠাকুরগাঁও-এ স্ত্রীসহ সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ভালোভাবেই জীবন যাপন করছি।"


"After graduating from Sylhet Osmani Medical College, Sirajganj Sadar Hospital was my first workplace. Later on, I have had the opportunity to work as an administrative officer at Thakurgaon Sadar Hospital. And at this moment I am residing at Thakurgaon.

My academic career began at Thakurgaon Primary School. After that I got admitted in Thakurgaon Zilla School. During the medical college life I have ever tried to live very simple. Since my home was far away, everybody from Osmani Medical College loved me. I started to understand the excellent aspect of human thoughts and consideration there.

Since my retirement I have worked with various non-governmental organizations. Now I am working with a clinic which is administrated by ESDO. The service is offered in exchange for a ticket worth just 20 taka. They honor me with half of the money collected from the tickets. Rest of the money is spent on the development of the clinic. I use to spend the whole day there. However, sometimes coming home in the afternoon I go to the Officers' Club.

During leisure time I give treatment at home in my small chamber. However, I do not accept any money in exchange of treatment. I think, with the money from the private medical center I get enough to run my family. I try to serve especially financially insolvent families from Ashrampara and Dakkhinpara.

I think that, boys and girls in the first row of merit list are getting admitted into Medical Colleges. These meritorious students study in urban environment; as a result sometimes they do not want to work at union level areas. It's very important for all of us. I invite all of the brothers and sisters from medical colleges to work at rural areas at least first one or two years of the career. In fact, the village is our identity. Ordinary people from the villages wait with a lot of hope. As a taxpayer, they also have a right on you; is not it? Besides, working in rural areas will extend the list of experience as well.

Right now I am working with a disability educational institution, sixty percent of students of which are disabled. We have received a land of about sixty-five shatak from the district administration. I extend my sincere thanks and gratitude to Thakurgaon district administration.

My two children are busy with their engagement of work in Dhaka. By the grace of the Almighty I have been living well with my wife in Thakurgaon."


607 September 07, 2016

  • comment Load Comments Section

    question_answer Comments

    No new comments.

Prev Next
Go back to Stories